
অবহেলিত চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত: ৪ কোটি মানুষের ভরসা কেবল চমেক হাসপাতালঃ আজ দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’। তবে এই বিশেষ দিনেও চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার চিত্রটি বেশ নাজুক। বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও গত কয়েক দশকে এখানে সরকারি পর্যায়ে নতুন কোনো বড় হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। ফলে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা-উপজেলার প্রায় ৪ কোটি মানুষের চিকিৎসার একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল।
চমেক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ২০০-তে উন্নীত করা হলেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শয্যার মাঝখানের সরু পথে রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসকদের সেবা প্রদানও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রামে বাড়ছে হামের সংক্রমণ: নতুন করে হাসপাতালে ১৭ শিশু, শনাক্ত আরও ২
অন্যদিকে, নগরীর ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি এখনো পর্যাপ্ত চিকিৎসক, বিভাগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটে ভুগছে। ফলে এর সেবা মূলত বহির্বিভাগ কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সীতাকুণ্ডের বিআইটিআইডি হাসপাতালটি শহরের বাইরে হওয়ায় সেখানে যাতায়াতে রোগীদের অনীহা দেখা যায়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে সামর্থ্যবান রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের দিকে ছুটছেন।
চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছেঃ
বার্ন হাসপাতাল: নগরীর গোয়াছি বাগান এলাকায় নির্মাণাধীন বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতালের কাজ শেষ হলে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের আর ঢাকা ছুটতে হবে না।
ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ভবন: ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে, যেখানে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি হৃদরোগ ও ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা থাকবে।
পেট-সিটি ও সাইক্লোট্রন: চমেক ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) অত্যাধুনিক পেট-সিটি মেশিন স্থাপনের কাজ শেষের দিকে। এর ফলে চট্টগ্রামেই ক্যান্সার নির্ণয় সম্ভব হবে এবং উৎপাদিত আইসোটোপ ব্যবহার করে বেসরকারি পর্যায়েও এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।
ফটিকছড়িতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কক্ষ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সরকারি খাতের ঘাটতি মেটাতে বেসরকারি পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে জনগণের অনুদানে পরিচালিত চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটসহ সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দিচ্ছে। এছাড়া গোল পাহাড় মোড়ে অস্থায়ীভাবে যাত্রা শুরু করেছে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন। তবে অনেক বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে এবং পর্যাপ্ত আস্থার অভাবে কিছু মেডিকেল কলেজের শয্যা খালি পড়ে থাকছে।
"চট্টগ্রাম মেডিকেল ও জেনারেল হাসপাতাল স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত। এত বছরেও দ্বিতীয় কোনো বড় সরকারি হাসপাতাল না হওয়া দুঃখজনক। মেগা প্রজেক্টে অনেক বরাদ্দ হলেও স্বাস্থ্যখাত বরাবরই অবহেলিত ছিল।"
— অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী, সভাপতি, সুজন, চট্টগ্রাম মহানগর।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের উচিত চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশেষ করে বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাব পূরণ এবং জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
প্রধান সম্পাদকঃ মীর আসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামরুল ইসলাম বাবু, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ওসমান গনি