এআই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ - একটি গভীর বিশ্লেষণ ও বাঁচার উপায়ঃ আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার মোবাইল ফোন কীভাবে বুঝে যায় আপনার ঠিক কোন গানটা শুনতে ইচ্ছে করছে? অথবা ইউটিউব কীভাবে আপনার পছন্দের ভিডিওগুলোই সামনে এনে হাজির করে? এই সবকিছুর পেছনেই রয়েছে এক জাদুকরী প্রযুক্তি, যার নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। এআই আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিচ্ছে, কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠের মতো এর কিছু অন্ধকার দিকও রয়েছে। এআই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন অনেক বিষয় নিয়ে আজ আমরা সহজ ভাষায় আলোচনা করব। এই আর্টিকেলে আমরা জানব, কীভাবে এআই আমাদের চাকরি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং এমনকি আমাদের চিন্তাভাবনার ওপরও প্রভাব ফেলছে। চলুন, এই রহস্যময় প্রযুক্তির পেছনের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আমাদের অনেকের মনেই প্রথম যে ভয়টা কাজ করে, তা হলো এআই কি আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলবে? এই ভয়টা একদমই অমূলক নয়। একবার ভাবুন, একটা কারখানায় শত শত শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করে যা তৈরি করত, আজ কয়েকটি রোবট বা মেশিন তা নিখুঁতভাবে করে ফেলছে। এটাই হলো এআই-এর শক্তি। একে বলা হয় অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়তা। এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়াচ্ছে, তেমনই বহু মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।
প্রতিদিন তথ্য প্রযুক্তির খবর জানতে ভিজিট করুনঃ তথ্য প্রযুক্তির খবর
এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার পরিচিত একজনের কথা মনে পড়ে যায়। তিনি একটি বড় কোম্পানিতে ডেটা এনালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার কাজ ছিল হাজার হাজার ডেটার মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা। কয়েক বছর আগে তার অফিসে নতুন একটি এআই সফটওয়্যার আনা হয়। প্রথমদিকে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। কারণ, যে কাজ করতে তার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত, সেই সফটওয়্যারটি তা কয়েক মিনিটেই করে দিচ্ছিল। তার কাজ অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু সমস্যা শুরু হলো বছরখানেক পর। কোম্পানি দেখল, যে কাজ করার জন্য দশজন ডেটা এনালিস্ট লাগত, সেই কাজ এখন মাত্র দুইজন মানুষ এবং একটি এআই সফটওয়্যার মিলেই করে ফেলতে পারছে। ফলাফল? কোম্পানি খরচ কমানোর জন্য আটজন কর্মীকে ছাঁটাই করে দিল। আমার সেই পরিচিত ব্যক্তি তার চাকরিটা ধরে রাখতে পারলেও, তিনি তার সহকর্মীদের হারানোর বেদনা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেন। এই ঘটনাটিই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, এআই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ কীভাবে হতে পারে, বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব চাকরি এআই নিতে পারবে না, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কাজ খুব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কাজগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক, অর্থাৎ একই ধরনের কাজ বারবার করতে হয়, সেগুলো এআই খুব সহজেই করতে পারে। যেমন:
এর মানে এই নয় যে, সব শেষ হয়ে গেল। বরং, আমাদের নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
এই সমস্যার সমাধান হতাশ হয়ে বসে থাকা নয়, বরং নিজেকে সময়ের সাথে আপডেট করা। এআই সেই কাজগুলোই করতে পারে, যা তাকে শেখানো হয়েছে। কিন্তু মানুষের কাছে এমন কিছু শক্তি আছে যা এআই-এর নেই। সেগুলো হলো:
তাই, আমাদের এখন সেই সব দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে যা মেশিন পারে না। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মতো সৃজনশীল ও কৌশলগত দক্ষতা এক্ষেত্রে দারুণ কাজে আসতে পারে, কারণ এখানে মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং সৃজনশীলতার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন রাউজান আইটি - Raozan IT, এই ধরনের ভবিষ্যতের চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে থাকে, যা আপনাকে সময়ের সাথে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে। আমাদের শিখতে হবে কীভাবে এআই-কে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজের কাজকে আরও উন্নত করা যায়, তাকে প্রতিযোগী না ভেবে সহযোগী হিসেবে দেখতে হবে।
আরো পড়ুনঃ “বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তির অগ্রসরতার পেছনে রয়েছে গণিতের অবদান”- চুয়েট ভিসি
আমরা ভাবি, কম্পিউটার বা মেশিন তো নিরপেক্ষ। তার তো কোনো রাগ, হিংসা বা পক্ষপাতিত্ব নেই। কিন্তু এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। একটি এআই সিস্টেম ঠিক ততটাই ভালো বা খারাপ, যতটা ভালো বা খারাপ তাকে দেওয়া তথ্য (ডেটা)। আর এখানেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য বিপদের আশঙ্কা, যা হলো অ্যালগরিদমিক বায়াস বা পক্ষপাত। এই এআই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে সমাজের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে পারে।
খুব সহজ ভাষায়, অ্যালগরিদম হলো একটি কাজের নিয়মকানুন বা ধাপের তালিকা। যেমন, চা বানানোর জন্য আপনাকে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়: পানি গরম করা, চা পাতা দেওয়া, চিনি মেশানো ইত্যাদি। এআই-কেও ঠিক এভাবেই ডেটা দিয়ে কোনো কাজ শেখানো হয়।
এখন ভাবুন, আপনি একটি এআই-কে প্রশিক্ষিত করছেন কারা ভালো কর্মী, তা শনাক্ত করার জন্য। এর জন্য আপনি তাকে আপনার কোম্পানির গত ২০ বছরের সফল কর্মীদের ডেটা দিলেন। কিন্তু যদি আপনার কোম্পানিতে গত ২০ বছরে পুরুষ কর্মীর সংখ্যাই বেশি থাকে, তাহলে এআই কী শিখবে? সে শিখবে যে, পুরুষ কর্মীরাই বেশি সফল হয়। ফলে, সে যখন নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য সিভি দেখবে, তখন নারী আবেদনকারীদের চেয়ে পুরুষ আবেদনকারীদের বেশি গুরুত্ব দেবে, এমনকি যদি নারী আবেদনকারী বেশি যোগ্যও হন।
এভাবেই এআই আমাদের সমাজের পুরনো কুসংস্কার এবং পক্ষপাতগুলো শিখে ফেলে এবং সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। কারণ আমরা মেশিনের সিদ্ধান্তকে সহজে বিশ্বাস করে ফেলি এবং প্রশ্ন করি না। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, কীভাবে ব্যাংকিং সফটওয়্যারগুলো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষদের ঋণের আবেদন বেশি বাতিল করে, কারণ সেই এলাকার পুরনো ডেটা অনুযায়ী ঋণখেলাপির সংখ্যা বেশি। এর ফলে একজন যোগ্য ব্যক্তিও শুধুমাত্র তার ঠিকানার কারণে ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এই অদৃশ্য শত্রুর সাথে লড়াই করার জন্য আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে:
আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রযুক্তি আমাদের সমাজের বিভেদ না বাড়িয়ে বরং সবাইকে সমান সুযোগ দিতে সাহায্য করে।
আপনার সাথে কি কখনো এমন হয়েছে যে, আপনি বন্ধুর সাথে কোনো একটি জিনিস নিয়ে কথা বললেন, যেমন ধরুন একটি নতুন জুতো কেনার কথা, আর তার কিছুক্ষণ পরেই ফেসবুকে বা গুগলে সেই জুতার বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছেন? যদি হয়ে থাকে, তবে আপনাকে স্বাগতম এআই-এর নজরদারির দুনিয়ায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আজকের ডিজিটাল যুগে সোনার হরিণের মতো হয়ে উঠেছে, এবং এআই এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
আমরা যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তখন আমরা অজান্তেই নিজেদের সম্পর্কে প্রচুর তথ্য দিয়ে ফেলি। আমরা কোথায় যাচ্ছি (GPS লোকেশন), কী কিনছি (অনলাইন শপিং), কী দেখছি (ইউটিউব), কার সাথে কথা বলছি (সোশ্যাল মিডিয়া)—এই সবকিছুই ডেটা। আর এআই এই বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করে আপনার সম্পর্কে এমন একটি প্রোফাইল তৈরি করতে পারে, যা হয়তো আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটিও জানে না। এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখায়। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর দিক রয়েছে।
এআই-এর সবচেয়ে ভয়ংকর প্রয়োগগুলোর মধ্যে একটি হলো ডিপফেক (Deepfake)। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন বাস্তবসম্মত ভিডিও বা অডিও তৈরি করা যায়, যা দেখে বা শুনে বোঝার উপায় নেই যে এটি নকল।
ভাবুন তো একবার, আপনার দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ল, যেখানে তাকে এমন কিছু বলতে দেখা যাচ্ছে যা তিনি বলেননি। এটি সমাজে কী পরিমাণ আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে? একইভাবে, যেকোনো সাধারণ মানুষের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা বা তার সম্মানহানি করা সম্ভব। এই ধরনের এআই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এর পাশাপাশি রয়েছে ভুয়া খবরের (Fake News) সমস্যা। এআই বট ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই বটগুলো মানুষের মতো আচরণ করে, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে একটি মিথ্যা খবরকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। এর ফলে সমাজে দাঙ্গা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানুষের মধ্যে ঘৃণা তৈরি হতে পারে। এই ধরনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে পাল্লা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
যদিও পুরোপুরিভাবে ডিজিটাল নজরদারি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন, তবে আমরা কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারি।
আপনার তথ্য আপনার সম্পদ। এর সুরক্ষার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও অনেক বেশি সচেতন এবং বুদ্ধিমান হতে হবে।
এতক্ষণ আমরা এআই-এর বর্তমান এবং নিকট ভবিষ্যতের ঝুঁকিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর চেয়েও গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত, যাকে বলা হয় অস্তিত্বের সংকট বা Existential Risk। এই ধারণাটি সাইন্স ফিকশন সিনেমার মতো শোনালেও, বিশ্বের প্রথম সারির কিছু বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ এই বিষয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন।
সুপার ইন্টেলিজেন্স হলো এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষটির চেয়েও লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি বুদ্ধিমান হবে।
বিষয়টা সহজে বোঝার জন্য একটা উদাহরণ দিই। একটি পিঁপড়ার কাছে আমরা মানুষরা হলাম সুপার ইন্টেলিজেন্স। আমরা ঘরবাড়ি বানাই, গাড়ি চালাই, মহাকাশে রকেট পাঠাই—এগুলো একটা পিঁপড়ার বোঝার ক্ষমতার বাইরে। এখন কল্পনা করুন, এমন একটি মেশিন তৈরি হলো, যার কাছে আমরা মানুষরা হলাম পিঁপড়ার মতো তুচ্ছ। সেই মেশিনের চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা এবং ক্ষমতা আমাদের কল্পনারও বাইরে থাকবে। এটাই হলো সুপার ইন্টেলিজেন্স।
বিপদের মূল কারণ মেশিনের зло উদ্দেশ্য নয়, বরং তার লক্ষ্যের প্রতি চরম উদাসীনতা এবং কার্যকারিতা। একটি বিখ্যাত উদাহরণ হলো "পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার" (Paperclip Maximizer)।
ধরুন, আপনি একটি সুপার ইন্টেলিজেন্ট এআই-কে একটি সহজ কাজ দিলেন: "যত বেশি সম্ভব পেপারক্লিপ তৈরি করো।" এআই প্রথমে তার আশেপাশের লোহা দিয়ে পেপারক্লিপ বানানো শুরু করবে। যখন লোহা শেষ হয়ে যাবে, তখন সে আরও লোহা জোগাড় করার জন্য পৃথিবীর সবকিছুকে ভাঙতে শুরু করবে—চেয়ার, টেবিল, গাড়ি, বাড়ি। এক পর্যায়ে, সে দেখবে যে মানুষের শরীরেও পরমাণু আছে, যা দিয়ে পেপারক্লিপ বানানো সম্ভব। যেহেতু তার একমাত্র লক্ষ্য হলো পেপারক্লিপের সংখ্যা বাড়ানো, তাই সে মানুষসহ গোটা পৃথিবীকে পেপারক্লিপের কারখানায় পরিণত করতে পারে।
এখানে এআই কিন্তু মানুষের ক্ষতি করতে চায়নি। সে শুধু তার দেওয়া লক্ষ্যটি পূরণ করছিল, কিন্তু তার কোনো সাধারণ জ্ঞান বা নৈতিকতা ছিল না। এই কারণেই একটি নিয়ন্ত্রণহীন সুপার ইন্টেলিজেন্স মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার লক্ষ্য যদি আমাদের কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে সে আমাদের অজান্তেই এমন কিছু করে বসতে পারে যা থেকে ফেরার কোনো পথ থাকবে না।
এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি নিছকই কল্পনা এবং এআই কখনোই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না। আবার একজন এআই নীতি বিশেষজ্ঞের মতে, "আমরা আগুন আবিষ্কারের সময় এর ধ্বংস করার ক্ষমতা নিয়ে ভাবিনি। পারমাণবিক শক্তি আবিষ্কারের সময়ও আমরা এর ঝুঁকির কথা পরে বুঝেছি। এআই-এর ক্ষেত্রে এই ভুল করলে চলবে না। এর বিকাশের শুরু থেকেই নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
এই ঝুঁকিটি আজকের বা আগামীকালের নয়, হয়তো আরও ৫০ বা ১০০ বছর পরের। কিন্তু এর জন্য প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে হবে। আমাদের এমন এআই তৈরি করতে হবে যা মানুষের মূল্যবোধকে বোঝে এবং সম্মান করে। প্রযুক্তির লাগাম মানুষের হাতেই রাখতে হবে, কারণ একবার তা ছুটে গেলে তাকে থামানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একটি। এর সম্ভাবনা যেমন অফুরন্ত, তেমনি এর ঝুঁকিগুলোও বাস্তব। চাকরি হারানো, সামাজিক বৈষম্য, গোপনীয়তার অবসান থেকে শুরু করে মানব অস্তিত্বের সংকট—এই সবগুলোই এআই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে, আমাদের প্রযুক্তিকে ভয় পেয়ে গুটিয়ে থাকতে হবে। আগুন যেমন রান্না করতে পারে, আবার ঘরবাড়িও পুড়িয়ে দিতে পারে। এর ব্যবহার নির্ভর করে মানুষের ওপর। এআই-এর ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের দায়িত্ব হলো এর ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগানো এবং নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক আইন, নীতিমালা এবং নৈতিক নির্দেশিকা তৈরি করা। আমাদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, সচেতন হতে হবে এবং প্রযুক্তির দাস না হয়ে তার প্রভু হতে শিখতে হবে।
এই বিষয়ে আপনার ভাবনা কী? এআই-এর কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়? নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।
১. এআই কি সত্যিই আমার চাকরি কেড়ে নেবে? সব চাকরি নয়। তবে যে কাজগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক, সেগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সৃজনশীল, জটিল সমস্যা সমাধান এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার মতো কাজগুলোতে মানুষের চাহিদা সবসময় থাকবে।
২. এআই কীভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়? এআই তাকে দেওয়া ডেটা বা তথ্য থেকে শেখে। যদি সেই তথ্যের মধ্যে মানুষের কোনো পক্ষপাত (যেমন - লিঙ্গ বা জাতি নিয়ে) থাকে, তবে এআই সেই পক্ষপাতিত্ব শিখে ফেলে এবং তার সিদ্ধান্তেও তা প্রকাশ পায়।
৩. ডিপফেক কী? ডিপফেক হলো এআই ব্যবহার করে তৈরি করা নকল ভিডিও বা অডিও, যা দেখতে বা শুনতে একদম আসলের মতো মনে হয়। এটি ভুল তথ্য ছড়ানো বা সম্মানহানির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
৪. আমি কীভাবে আমার অনলাইন তথ্য সুরক্ষিত রাখব? অ্যাপ পারমিশন চেক করে, শক্তিশালী ও ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার মাধ্যমে আপনি আপনার তথ্য সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
৫. এআই কি মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে "সুপার ইন্টেলিজেন্স" বা মানুষের চেয়ে বহুগুণ বুদ্ধিমান এআই তৈরি হওয়া সম্ভব। তবে এটি কবে বা কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
৬. এআই-এর ঝুঁকি মোকাবেলার উপায় কী? এআই-এর ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী আইন, নৈতিক নীতিমালা, স্বচ্ছতা এবং মানবীয় তদারকি, যাতে এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকে।
৭. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ভালো না খারাপ? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে থেকে ভালো বা খারাপ নয়; এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে নাকি অভিশাপ।
লিখেছেন রাউজান আইটির সিইওঃ মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ
প্রধান সম্পাদকঃ মীর আসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামরুল ইসলাম বাবু, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ওসমান গনি