
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ: একদিনে ভর্তি ২৬ শিশু, একজনের মৃত্যুঃ চট্টগ্রামে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে মোট ৫৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন থাকলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালেই ভর্তির সংখ্যা ৩৩।
গত সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা আয়েশা সিদ্দিকা নামে সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশু চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শিশুটি হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
জ্বালানি আমদানিতে গতি: ২৭,৩০০ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে জাহাজ নোঙর
এছাড়া ইতোমধ্যে পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই টিকার আওতাভুক্ত ছিল না।
টিকাহীন: ২১ জন শিশু কোনো ডোজই নেয়নি (যাদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ২-৯ মাস)।
আংশিক টিকা: ৯ জন শিশু শুধুমাত্র এক ডোজ টিকা নিয়েছে।
পূর্ণ ডোজ টিকা: ২ ডোজ টিকা নেওয়ার পরও ৩ জন শিশু (বয়স: ১.৫ বছর, ২ বছর ও ৮ বছর) আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান:
০–৯ মাস: ১৪ জন
১০ মাস–১ বছর: ৪ জন
২–৫ বছর: ১৩ জন
৬–১০ বছর: ২ জন
পুলিশের যৌথ অভিযান: রাউজানে ২ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ৯১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার 'ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরি'তে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৪১ জন এবং ১৫টি উপজেলার ৫০ জন শিশু রয়েছে।
চমেক হাসপাতাল ছাড়াও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা জানানঃ
"হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশুই টিকা নেয়নি অথবা বয়স না হওয়ায় টিকার আওতার বাইরে ছিল। তবে যারা দুই ডোজ নেওয়ার পরও আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সম্ভবত শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি। কোনো টিকার কার্যক্ষমতাই ১০০ শতাংশ নয়, তাই এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।"
রাঙ্গুনিয়ায় বালতির পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেনঃ তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদকঃ মীর আসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামরুল ইসলাম বাবু, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ওসমান গনি