
ফটিকছড়িতে কৃষি জমির মাটি কাটার গর্তে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যুঃ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে দুই কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের করিম বাপের বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলোঃ সংশ্লিষ্ট এলাকার হাবিবের মেয়ে সাকি মনি (৭) এবং জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা (৮)। তারা সম্পর্কে খেলার সাথী ও প্রতিবেশী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে ওই কৃষি জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই পরিত্যক্ত গভীর গর্তে পানি জমে একটি ডোবার সৃষ্টি হয়। আজ সকালে বাড়ির পাশে খেলার এক পর্যায়ে শিশু দুটি অসাবধানতাবশত ওই গর্তের পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়।
দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো হদিস না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গর্তের পানিতে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আগামী ২৫ এপ্রিল ফটিকছড়ি সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে কৃষি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মাটি কাটার পর গর্তগুলো ভরাট না করা বা চলাচলের পথে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না দেওয়ায় এ ধরনের প্রাণহানি ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, “যেনতেনভাবে মাটি কাটার ফলে আজ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় ছরোয়ার নামের এক ব্যক্তি এই মাটি কেটে গর্ত সৃষ্টি করেছেন।”
তবে অভিযুক্ত ছরোয়ার এই দায় অস্বীকার করে বলেনঃ
“আমি এখন আর মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত নেই। ওই জায়গা থেকে মাটি কাটার সঙ্গে স্থানীয় পারভেজ, শুক্কুর ও মিটু জড়িত।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ: একদিনে ভর্তি ২৬ শিশু, একজনের মৃত্যু
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম সংবাদমাধ্যমকে বলেনঃ
“ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বা নিয়মবহির্ভূতভাবে গভীর গর্ত করে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা ফসলি জমি নষ্ট করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে এবং অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান সম্পাদকঃ মীর আসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামরুল ইসলাম বাবু, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ওসমান গনি