
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি), পবিত্র শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক এক রজনী। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ দিবাগত রাতে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার এবং মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এই বরকতময় রাতটি পালন করবেন।
ইসলামি পরিভাষায়, হিজরি রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতটি ‘শবে মেরাজ’ হিসেবে পরিচিত। ‘শব’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ রাত; আর ‘মেরাজ’ আরবি শব্দ, যার অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা সিঁড়ি। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, নবুয়ত প্রাপ্তির একাদশ বর্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর বিশেষ আমন্ত্রণে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেছিলেন।
এই ঐতিহাসিক সফরে তিনি মহান আল্লাহর দিদার (সাক্ষাৎ) লাভ করেন এবং সৃষ্টিজগতের অনেক রহস্য প্রত্যক্ষ করেন। দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে আল্লাহর অসীম কুদরত ও ক্ষমতার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
মেরাজের ঘটনাটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত— ‘ইসরা’ ও ‘মেরাজ’। মহান আল্লাহর হুকুমে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে মহানবী (সা.) পবিত্র কাবার হাতিম থেকে ‘বুরাক’ নামক এক দ্রুতগামী বাহনে চড়ে প্রথমে বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদে আকসায় গমন করেন, যা ‘ইসরা’ নামে পরিচিত। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সকল নবীর ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন।
এরপর সেখান থেকে তিনি একে একে সাত আসমান অতিক্রম করে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। এই সফরে তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের বিভিন্ন দৃশ্য অবলোকন করেন এবং সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছান। সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেন। এই অলৌকিক সফরই ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত।
ধর্মীয় সকল পোষ্ট পেতে ভিজিট করুনঃ ধর্ম

শবে মেরাজের সবচেয়ে বড় উপহার হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। মেরাজের এই সফরে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবের উম্মতদের জন্য প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ উপহার দেন। পরবর্তীতে হজরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে এবং মহানবী (সা.)-এর বারবার আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারণ করেন। তবে আল্লাহ ঘোষণা করেন, কেউ যদি নিষ্ঠার সাথে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তবে সে ৫০ ওয়াক্ত নামাজের সওয়াবই পাবে। এরপর থেকেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়।
শবে মেরাজ পালন সম্পর্কে কোরআন বা হাদিসে সুনির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, তবে এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন নফল ইবাদতে মশগুল থাকেন। যার মধ্যে রয়েছে:
নফল নামাজ: এই রাতে ব্যক্তিগতভাবে নফল নামাজ আদায় করা হয়।
কোরআন তেলাওয়াত: পবিত্র কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ সুরা ও আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাত কাটানো।
জিকির ও তসবিহ: মহান আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনায় সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করা।
দোয়া ও মোনাজাত: নিজের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করা।
রোজা রাখা: অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান বরকতের আশায় রজব মাসের এই সময়ে নফল রোজা রাখেন।
শবে মেরাজের শিক্ষা হলো মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলা। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান ও যুক্তির ঊর্ধ্বে আল্লাহর কুদরত বিদ্যমান। মেরাজের মাধ্যমে মানবজাতিকে নামাজের মতো শ্রেষ্ঠ ইবাদত উপহার দেওয়া হয়েছে, যা মুমিনের জন্য মেরাজ স্বরূপ।
পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে মেরাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। মুসলিমরা আজ রাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করবেন।
প্রধান সম্পাদকঃ মীর আসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কামরুল ইসলাম বাবু, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ওসমান গনি
