

রাউজানে ছড়াসম্রাট সুকুমার বড়ুয়ার শেষ বিদায়: অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরনিদ্রায় শায়িত: বাংলা ছড়াসাহিত্যের কিংবদন্তি, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি ও ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়াকে তাঁর প্রিয় জন্মমাটিতে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে তাঁকে পারিবারিক শ্মশানে সমাহিত করা হয়।
সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা
সোমবার সকাল থেকেই কবির মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। প্রিয় এই ‘ছড়া জাদুকর’কে শেষবারের মতো দেখতে এবং ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, ভক্ত-অনুরাগীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এক শোকাতুর পরিবেশে অশ্রুসিক্ত নয়নে গুণগ্রাহীরা প্রিয় কবিকে চিরবিদায় জানান। এ সময় কবির দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।
রাউজানে নিজ বাড়ির কাছে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা
প্রয়াণ ও সংক্ষিপ্ত জীবনী
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে রাউজান উপজেলা এর একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। নিয়তির অমোঘ বিধানে, তাঁর ৮৮তম জন্মদিনের মাত্র তিন দিন আগে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি রাউজানের মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় তিনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনী এবং হাস্যরসে ভরপুর ছন্দের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
সাহিত্যিক স্বীকৃতি ও পদক
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা ছড়াসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। এ ছাড়া তাঁর ঝুলি সমৃদ্ধ হয়েছে অসংখ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায়। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে:
-
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
-
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার
-
অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।
অপূরণীয় শূন্যতা
তাঁর প্রয়াণে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। কবির মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। ভক্ত ও গুণগ্রাহীদের মতে, সুকুমার বড়ুয়া তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। সহজ-সরল শব্দের গাঁথুনিতে নিগূঢ় সত্য ফুটিয়ে তোলার যে বিরল ক্ষমতা তাঁর ছিল, তা বাংলা সাহিত্যে তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

