রাউজানে মাস্টারদা সূর্যসেনের ৯২তম ফাঁসি দিবস পালিত

AL Sheraz

“মরণকে আমি ভয় পাই না, আমার দেশের মুক্তিই আমার শেষ প্রার্থনা”—১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ব্রিটিশের জল্লাদ মঞ্চ থমকে দিতে চেয়েছিল এক বিপ্লবীর কণ্ঠ। কিন্তু ৯২ বছর পরও সেই ‘মাস্টারদা’ সূর্যসেন আজও কোটি প্রাণে মুক্তির আলোকবর্তিকা। সশস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের সেই মহানায়ক মাস্টারদা সূর্যসেনের ৯২তম ফাঁসি দিবস চট্টগ্রামের রাউজানে সোমবার (১২ জানুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ও সশ্রদ্ধচিত্তে পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সূর্যসেনের জন্মভূমি রাউজানের নোয়াপাড়ার সূর্যসেন পল্লী এবং উপজেলা সদরের মুন্সিঘাটাস্থ সূর্যসেন চত্বর লোকেলোকারণ্য হয়ে ওঠে। সোমবার সকালে সূর্যসেন কমপ্লেক্স চত্বরে আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ত্রিফল চৌধুরী, তপন চৌধুরী (মনু) ও অরুণ কুমার বিশ্বাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রাউজানে ছড়াসম্রাট সুকুমার বড়ুয়ার শেষ বিদায়: অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরনিদ্রায় শায়িত

মাস্টারদা সূর্যসেন

বিকেলে নোয়াপাড়ায় সূর্যসেনের পৈত্রিক ভিটায় পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন তালুকদার। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন বিজ্ঞান চেতনা পাঠাগারের প্রধান উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম বাবু এবং গণসংহতি আন্দোলন এর চট্টগ্রাম মহানগরের নির্বাহী সমন্বয়কারী মোরশেদ আলম।

এছাড়া রাউজান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাবেক সভাপতি মীর আসলাম, বর্তমান সভাপতি প্রদীপ শীল এবং সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন রানার নেতৃত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ সূর্যসেনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একে একে সূর্যসেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদ ও মাস্টারদা সূর্যসেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই মহান বিপ্লবীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা মাস্টারদা সূর্যসেনের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে না পৌঁছানোয় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “যে বীরের রক্তে এ দেশের স্বাধীনতার ভিত্তি রচিত হয়েছিল, তাঁর ফাঁসি কার্যকরের দিনটি আজও জাতীয়ভাবে পালিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বক্তারা অবিলম্বে সূর্যসেনের ফাঁসি দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং পাঠ্যবইয়ে ১৯৩০ সালের ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ ও সূর্যসেন-প্রীতিলতা-তারকেশ্বরদের আত্মত্যাগের বিস্তারিত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানান। তারা মনে করেন, সূর্যসেনের আদর্শ চর্চা ছাড়া সত্যিকারের শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।

১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই সূর্যসন্তান। বর্তমানে তাঁর পৈত্রিক ভিটায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘সূর্যসেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ এবং একটি স্মৃতিসৌধ। এছাড়া রাউজান সদরে নির্মিত তোরণ, ভাস্কর্য এবং পাঠাগারগুলো আজও দর্শনার্থীদের বিপ্লবের ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

AL Sheraz
AL Sheraz