রাউজানে সন্ত্রাসী হামলার দুই এসআইসহ ৫ পুলিশ আহত, পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাংচুর

Raozan IT

রাউজান নিউজ ডেক্স :

রাউজানে ওমান প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে লুট হওয়া মোটরসাইকেলে উদ্ধার অভিযসানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত হয়েছেন আরও তিন পুলিশ সদস্য। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে পুলিশের পিকআপ ভ্যান গাড়িও।

সোমবার রাত পৌণে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ইয়াসিন নগর গ্রামের জানিপথর বাজারে।

আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন স্থানীয় চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ খোরশেদ আলম, কনেস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাসেল দে, শাহরিয়ার রশিদ। তাঁদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

৩ ডিসেম্বর  মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনায় হামলার নেতৃত্ব দেওয়া স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসী মুহাম্মদ ফােরকানসহ মোট ১১ জনেট নাম উল্লেখ করে পুলিশের অভিযানে হামলার দায়ে মামলা করেছে পুলিশ। চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল কাদের বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিনদুপুরে চিকদাইর ইউনিয়নের দক্ষিণ সর্তা গ্রামের ওমান প্রবাসী ব্যবসায়ী এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম সমিতির ওমানের সভাপতি ইয়াসিন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির দুটি দ্বিতন ভবনে আগুন দেয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ২০ থেকে ২৫ টি মোটরসাইকেলে করে আসা ৪০ থেকে ৫০ জন সন্ত্রাসী। ওই সন্ত্রাসীরা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারী বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

ওইদিন ওই বাড়ির একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়৷ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় পালসার কোম্পানীর একটি মোটরসাইকেল।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে মােটরসাইকেলটি পার্শ্ববর্তি ইউনিয়নের জানি পাথর বাজারে আছে।

রাতে পুলিশের ৭ জন সদস্যের একটি দল পিক আপ ভ্যানে করে ওই বাজারে মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে গেলে লােহার রড় ও পাইপ নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী পুলিশের উপর হামলা করে। এতে পাঁচ পুলিশ আহত হয়। ভাংচুর করা হয় পুলিশ বহনকারী পিকআপ ভ্যান। পরে লুট হওয়া মোটরসাইকেলসহ নিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেই মোটরসাইকল উদ্ধার না করেই ফিরে আসে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওমান প্রবাসীর বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং লুটপাটের ঘটনার প্রধান আসামী ডাবুয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা উপজেলার এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুল হককে গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরী থেকে র্য্যাব গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের হামলার ঘটনার নেতৃত্ব দেন সেই আজিজুল হকের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুহাম্মদ ফোরকান।

চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আব্দুল কাদের গণমাধ্যমকে  বলেন, লুট হওয়া মােটরসাইকেল উদ্ধার করতে গেলে ২৫ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী আমাদের উপর ইটপাটকেল, লােহার রড ও পাইপ দিয়ে হামলা করে। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ আহত হয়। পুলিশের পিকআপ ভ্যানও ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ১১ জনকে চিহ্নিত আসামী করে মামলা করা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসীরা পালাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা যায়নি।

AL Sheraz