

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচার, প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দঙ্গলবাজদের তাণ্ডব এবং ভালুকায় পোশাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী চিরন্তন চিরু এবং সঞ্চালনায় ছিলেন নির্বাহী সমন্বয়কারী মো. মোরশেদুল আলম।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন উত্তর জেলার সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন তালুকদার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সমন্বয়কারী ইঞ্জি. জাহিদুল আলম, মহানগর সংগঠক নুরুন নেচ্ছা মুন্নি, মো. সোহাগ, সাহাবু উদ্দিন খান, মো. মামুন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা আরিফুল হক আরিফ, শওকত ওসমান তৌকির, পলাশ দে-সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রামের সকল খবর সবার আগে পেতে ভিজিট করুনঃ চট্টগ্রামের খবর
নাসির উদ্দিন তালুকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন:
“বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের দঙ্গলবাজি, গণমাধ্যমে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব, যা গভীর উদ্বেগজনক। এই নীরবতা প্রমাণ করে—সরকার চায় গণমাধ্যম আতঙ্কে থাকুক, সত্য কথা না বলুক। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ভয়ের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, গত রাতে ছায়ানট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানে যে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, তা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার দাবি যখন সারাদেশে উচ্চারিত হচ্ছিল, তখন সেই শোককে ঢেকে দিতে একটি সংগঠিত দঙ্গলবাজ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
নাসির উদ্দিন তালুকদার আরও যোগ করেন, “আমরা কোনো হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। কিন্তু যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নুরুল কবীরের মতো সাংবাদিকের ওপর হামলা প্রমাণ করে এরা কোনো ক্ষুব্ধ জনতা নয়, বরং একটি সংগঠিত ফ্যাসিবাদী দঙ্গল।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সহিংসতা অব্যাহত থাকলে তা আসন্ন নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যারা অতীতে শেখ হাসিনার কায়দায় দেশকে বিভাজিত করেছে, আজ আবার তারাই নতুন রূপে মাথাচাড়া দিচ্ছে। এই দঙ্গলবাজ রাজনীতিকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করতেই হবে।
সমাবেশ থেকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত বিচার, সাংবাদিক নুরুল কবীরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং গণমাধ্যম ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।


One thought on “সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ”
Comments are closed.