
হালদার জোয়ারে প্লাবিত হাটহাজারীর মাইজপাড়াঃ জনজীবনে চরম দুর্ভোগ, সমাধানের দাবিঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১০ নং মেখল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মধ্যম বাড়িঘোনা গ্রামের মাইজপাড়া এলাকায় হালদা খালের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। প্রতিদিনের জোয়ারে এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, হালদা খালের জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাইজপাড়া এলাকার প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পানিতে রাস্তা ডুবে থাকায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জোয়ারের পানির কারণে শুধু যাতায়াতেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, ঘরে পানি ওঠায় হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের মতো গবাদিপশু পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেককেই গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। এলাকার ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে ধর্মীয় উপাসনালয়েও। স্থানীয় জামে মসজিদে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের পানিতে আমাদের সবকিছু ডুবে যায়। ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না, রাস্তাঘাটের অবস্থা এতই খারাপ যে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এই দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে একটি স্থায়ী সমাধান চাই।
এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৪৩০ ফুট রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে, এলাকার ৮০-৯০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় এবং আর্থিক সংকটের কারণে সেই কাজ বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিজেদের সীমিত সামর্থ্যে সম্পূর্ণ রাস্তা সংস্কার সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসী ও প্রবাসীরা এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড এর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তাদের দাবি, হালদা খালের তীরে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে অথবা কার্যকর স্লুইসগেট স্থাপন করা হলেই কেবল এই অঞ্চলকে জোয়ারের পানি থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করা সম্ভব।

One thought on “হালদার জোয়ারে প্লাবিত হাটহাজারীর মাইজপাড়া: জনজীবনে চরম দুর্ভোগ”
Comments are closed.