মুর্শিদ প্রেমের অনন্য নিদর্শন কুতুবুল আকতাব হযরত শাহসূফি ছৈয়দ কামাল শাহ (রাঃ)

AL Sheraz

তাসাউফের জগৎ এমন এক আধ্যাত্মিক পরিসর, যেখানে লক্ষ্য থাকে মানুষকে নিজের সত্তার সীমা অতিক্রম করে আল্লাহর নিকটবর্তী করা। এই পথে মুরীদ (শিক্ষার্থী) একা এগোতে পারে না; তাকে প্রয়োজন হয় এমন এক পরিপূর্ণ মুরশিদের (আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক), যিনি আল্লাহর পথে চলার রীতিটি জানেন এবং তার নিজের ভেতরে তা বাস্তবায়ন করেছেন। এই প্রক্রিয়াতেই উদ্ভব ঘটে “ফানা ফিশ্ শাইখ” ধারণার, অর্থাৎ মুরীদ তার আত্মিক ইচ্ছা, অহং ও সত্তাকে মুরশিদের ইচ্ছা ও নির্দেশের মধ্যে বিলীন করে দেয়। এটি আত্মশুদ্ধির প্রথম স্তর, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ।

“ফানা” শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ থেকে, যার অর্থ বিলীন হয়ে যাওয়া, বা অস্তিত্ব হারানো। তাসাউফে এর অর্থ আত্মার বিলুপ্তি নয়, বরং নিজের ইচ্ছা ও অহংকে ধ্বংস করে প্রভুর ইচ্ছায় নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করা। ইমাম আল-জুনাইদ আল-বাগদাদী (রহ.) যিনি তাসাউফের অন্যতম ইমাম ফানাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন:

“ফানা হলো নিজের ইচ্ছাকে ধ্বংস করে আল্লাহর ইচ্ছায় বিলীন হওয়া।”(আল-কুশাইরী, আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়্যাহ, কায়রো সংস্করণ, পৃ. ১০১)

এই সংজ্ঞাটি আসলে তাসাউফে আত্মবিসর্জনের মূল সারমর্ম। যখন একজন মুরীদ নিজের ইচ্ছাকে ত্যাগ করে মুরশিদের নির্দেশ ও রুহানী প্রশিক্ষণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে, তখন তার মধ্যে নফসের প্রভাব ক্ষীণ হয়ে আসে। মুরশিদের প্রতি ভালোবাসা, আস্থা ও আনুগত্যের মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে নিজের স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে মুক্ত হয়।

কুরআনুল কারিমে সরাসরি “ফানা ফিশ্ শাইখ” শব্দবন্ধ নেই, কিন্তু এর মূল আত্মিক দর্শন বহনকারী বহু আয়াত রয়েছে। আল্লাহ বলেন:

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।” (সূরা আত-তাওবা: ১১৯)

এই আয়াতে “সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গী হও” নির্দেশটি সুফি ব্যাখ্যায় কেবল বাহ্যিক সঙ্গ নয়, বরং আত্মিক সঙ্গকেও নির্দেশ করে। মুরীদ যখন সৎ ও আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণ মুরশিদের সান্নিধ্যে থাকে, তার অন্তরও ধীরে ধীরে আলোয় উদ্ভাসিত হয়।

অন্য এক স্থানে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“তোমরা আমার (নবীর) অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)

সুফিদের মতে, এই অনুসরণের ধারা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয় প্রথমে মুরশিদের অনুসরণ, তারপর নবীর, এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে একাত্মতা। কারণ মুরশিদ সেই পথপ্রদর্শক, যিনি নববী চরিত্রের প্রতিফলন ঘটান এবং মুরীদকে সেই পথে অগ্রসর হতে সহায়তা করেন।

জালালিয়তের সম্রাট হযরত বাবা ভান্ডারী (ক.)

হাদীস শরীফে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

“মানুষ যার সঙ্গে ভালোবাসা রাখে, সে তার সঙ্গেই থাকবে।” (বুখারী, মুসলিম)

এই হাদীসটি তাসাউফে প্রেম ও আত্মিক সংযোগের ভিত্তি। যখন মুরীদ তার মুরশিদকে নিখাদ ভালোবাসে, তার আদর্শকে অন্তরে ধারণ করে, তখন তার আত্মিক অবস্থাও মুরশিদের নিকটে অবস্থান করে।

অন্য হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

“যে আমার নিযুক্ত আমিরের আনুগত্য করলো, সে আমারই আনুগত্য করলো; আর যে তার অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো।” (সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ)

সুফি ব্যাখ্যায় বলা হয়, আধ্যাত্মিক জগতে মুরশিদ এমনই এক “আমির” যিনি আল্লাহ ও রাসূলের পথ প্রদর্শন করেন। তাঁর আনুগত্য আসলে শরিয়তেরই আনুগত্য, কারণ সত্যিকার মুরশিদ কখনো শরিয়তের সীমা ছাড়িয়ে কিছু বলেন না। তাসাউফে ফানা ফিশ্ শাইখকে দেখা হয় আত্মিক প্রশিক্ষণের সূচনা হিসেবে। ইমাম আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেন:

“যার কোনো মুরশিদ নেই, তার মুরশিদ হলো শয়তান।” (ফাতহুর রাব্বানী, মাজলিস ১১)

এর মর্মার্থ এই যে, মানুষ নিজস্ব প্রবৃত্তির ওপর ভরসা করলে তা প্রায়ই ভুল পথে চালিত করে। মুরশিদ হলেন সেই আয়না, যেখানে মুরীদ নিজের অন্তরের ত্রুটি ও অন্ধকার দেখতে পায়। মুরশিদের দিকনির্দেশনায় সে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করে, এবং ধীরে ধীরে আল্লাহর নিকটবর্তী হয়।

শাইখুল আকবর মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবি (রহ.) তাঁর ফুতূহাতুল মাক্কিয়্যাহ-তে উল্লেখ করেন:

“শেখ হলো মুরীদের জন্য একটি আয়না; তাতে সে নিজের সত্তার প্রতিচ্ছবি দেখে। যদি তার অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, সে তাতে আল্লাহর প্রতিফলন দেখতে পায়।”

এই উক্তিতে ফানার এক গভীর প্রতীকী অর্থ নিহিত মুরীদ তার মুরশিদের মাধ্যমে আল্লাহর রশ্মি ও নূরের আভা গ্রহণ করে। এখানে মুরশিদ কোনো দেবত্বপূর্ণ সত্তা নয়, বরং এক মাধ্যম, যার দ্বারা মুরীদ নিজের পরিশুদ্ধ চেতনায় পৌঁছায়।
আধ্যাত্মিকভাবে ফানা ফিশ্ শাইখ মানে নিজের “আমি”কে মুরশিদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশে বিলীন করা, যাতে মুরীদ ধীরে ধীরে নফসের গোলামি থেকে মুক্ত হয়। মুরশিদের প্রতি এই আত্মসমর্পণ তাকে বিনয়ী করে, তাকে আত্ম-অহংকার ও গর্ব থেকে দূরে রাখে। সুফিরা বলেনঃ

“যে আল্লাহর জন্য নম্র হয়, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেন।”

ফানা ফিশ্ শাইখের ধারণা শরিয়তের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ নয়। বরং এটি শরিয়তের অনুশীলনের গভীর আধ্যাত্মিক রূপ। ইমাম আহমদ সিরহিন্দি (রহ.) বলেন:

“যদি মুরশিদ শরিয়তের পথে থাকেন, তবে তার মধ্যে ফানা হওয়া আল্লাহর পথে পৌঁছার মাধ্যম; কিন্তু যদি তিনি শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করেন, তবে সেটি কেবল বিভ্রান্তি।” (মাকতুবাতে ইমাম রাব্বানী, খণ্ড ১, মাকতুব ৩৬)

এইভাবে ফানা ফিশ্ শাইখের সত্যিকারের উদ্দেশ্য হলো আত্মাকে এমনভাবে প্রস্তুত করা যাতে সে নববী আদর্শে প্রবেশ করতে পারে। এটি আসলে আত্মিক শৃঙ্খলার প্রথম পাঠ “আত্মনিবেদন”। মুরীদ যখন শেখে কীভাবে নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছায় বিলীন করতে হয়, তখনই সে “ফানা ফি রাসূল” ও “ফানা ফিল্লাহ”-এর উচ্চতর ধাপে পৌঁছার উপযুক্ত হয়ে ওঠে।

বর্তমান যুগে, যখন মানুষ অহংকার, সন্দেহ ও আত্মকেন্দ্রিকতার মধ্যে ডুবে গেছে, তখন ফানা ফিশ্ শাইখের বাস্তব অনুশীলন মানুষকে আবার আধ্যাত্মিক ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনতে পারে। এটি মানুষকে শেখায় কীভাবে আত্মাকে বিনয়ী করা যায়, কিভাবে শ্রদ্ধা ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অন্তরের বিশুদ্ধি অর্জন করা যায়।

শেষাবধি বলা যায়, “ফানা ফিশ্ শাইখ” কোনো অন্ধ আনুগত্য নয়; বরং এটি এক আত্মিক অনুশীলন, যেখানে মুরীদ নিজের সত্তার অহংকে ধ্বংস করে আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে আল্লাহর পথে অগ্রসর হয়। মুরশিদের ভালোবাসা ও আনুগত্যের মাধ্যমে সে আল্লাহর ভালোবাসার পথ খুঁজে পায়। কারণ মুরশিদের মাধ্যমে যে নূর প্রকাশিত হয়, তা নববী নূরেরই প্রতিফলন, আর সেই নূরেরই চূড়ান্ত উৎস আল্লাহ তাআলা।

মুর্শিদের প্রতি একনিষ্ঠতার সর্বোচ্চ পর্যায় পরিলক্ষিত হয় সাহাবায়ে কেরামের জীবনে। যারাঁ নিজেদের জীবনের সমস্ত কিছুকে ব্যয় করেছেন রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরঁ খেদমতে। রসূলের জন্য তারঁ প্রদর্শিত ধর্মের তরে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজেদের সবকিছু এমন কী সবচেয়ে প্রিয় বস্ত জীবনের মায়া পর্যন্ত করেন নাই। রসূল এরঁ কথা ছিল তাদের নিকট মধুমাখা বানী শ্রেষ্ঠ সংবিধান। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথায় ছিল সাহাবিদের জীবন পরিচালনার প্রধান মাধ্যম Guideline।

দয়াল নবীর প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালবাসা ত্যাগ আজ দুনিয়ার বুকে চিরকালের জন্য তাদের করেছেন অতুলনীয়। পৃথিবীতে যে সকল আউলিয়ায়ে কেরাম আত্নিক উন্নতি সাধন করেছেন মহাপ্রভুর প্রিয় নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দায় পরিণত হয়েছেন তারা সকলেই নিজ নিজ পীর মুর্শিদের প্রতি ভালোবাসা ও অনুসরণ এর সর্বোচ্চ স্তর এ অবস্থান করেছিলেন। বিখ্যাত সূফি তাপস্যা হযরত রাবেয়া বসরী (রাদিঃ) বলেন “যদি তুমি ইশকের দাবিতে সত্যবাদী হও তবে তুমি প্রকৃতভাবে তার (মুর্শিদের) অনুসরণ করেই চলবে।” এভাবে বিশ্বখ্যাত মওলানা হযরত জালাল উদ্দিন রুমি (রঃ), খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রঃ) সহ অসংখ্য জগতখ্যাত আউলিয়ায়ে কেরাম নিজ নিজ পীর মুর্শিদের প্রতি ভালোবাসা একাগ্রতা নিয়েই জীবন পরিচালনা করেছেন। জগতের বুকে হয়েছেন চিরস্মরণীয় বরণীয়।

মুর্শিদ এর প্রতি একাগ্রতা ভালবাসার আরেক জলন্ত নিদর্শন হলেন কুতুবুল আকতাব হযরত শাহসূফি মওলানা ছৈয়দ কামাল শাহ (রাঃ)। রাউজান থানার অন্তর্গত মইশকরম গ্রামে আবির্ভাব হয়েছিল এই মহান আধ্যাত্মিক সাধকের। তিনি এমন মহান ব্যাক্তিত্ত্ব ছিলেন যার ব্যাপারে তার স্বীয় পীরে মুর্শিদ হযরত গাউছুল আজম ছৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারি (কঃ) প্রকাশ বাবা ভান্ডারী কেবলা তার (মওলানা ছৈয়দ কামাল) পিতা সৈয়দ আব্দুল জাব্বার কে এই দুনিয়াতে আগমনের শুভবার্তা এবং পরবর্তীতে নিজ রুহানী সন্তান তথা সিলসিলার প্রতিনিধিত্ব করার শুভ সংবাদ দেন। মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) বাল্যকাল থেকেই অত্যন্ত আদব বিনয় এর অধিকারী ছিলেন। ছাত্র অবস্থা থেকে তিনি নিয়মিত মাইজভান্ডারি শরীফ যাতায়াত করতে থাকেন।

সে সময় থেকে অনেক আলেমদের সোহবত আল্লাহর মকবুল বান্দাদের সান্নিধ্যে তাকে ত্বরিকতের উচ্চস্তরে আরোহনের পথ কে সহজ করে দিয়েছিলেন। আস্তে আস্তে বাবা ভান্ডারী কেবলার প্রতি তার ভালবাসা ও মোহাব্বত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাবা ভান্ডারী কেবলাও তাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন স্নেহ করতেন। অনেক সময় মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) এর আগমণের জন্য দরবারের মেহমান আপ্যায়ন এর কাজ পর্যন্ত স্থগিত রাখতেন। মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) তিনিও ছিলেন বাবা ভান্ডারী কেবলার মোহাব্বতে দিওয়ানা। বাবা ভান্ডারী ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। মন ব্যাকুল হলেই ছুটে যেতেন নিজ মুর্শিদের নিকট। বাবা ভান্ডারী কেবলা মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) এর এমন একাগ্রতা ভালবাসা ও তার যোগ্যতা দেখে তাকে ত্বরিকতের সিলসিলার প্রতিনিধিত্ব করার মহান দায়িত্ব খেলাফত প্রদান করেন। একদা হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা দীর্ঘ চল্লিশ দিন পর্যন্ত চাদর মুড়িয়ে রেয়াজতে ছিলেন। সে সময় কারো সাথে কথা বলেন নাই। কোন খাদ্যপানীয় গ্রহণ করেন নাই।

কোন নড়াচড়া কিছুই ছিলনা, ছিলেন এক মহাধ্যানে। দূর দূরান্ত হতে আশেকভক্তগণ এমন সংবাদ শুনে ছুটে এসেছিলেন বাবা ভান্ডারী কেবলার পবিত্র দরবারে। সে সময় বাবা ভান্ডারী কেবলার দরবারে হাজির ছিলেন মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ), কেউ তখন বাবা ভান্ডারী কেবলাকে ডাকার কিংবা তার সাথে কথা বলার সাহস করেন নাই। সে সময় উপস্থিত থাকা দরবারের মহামান্য আওলাদ গণের অনুরোধ এ বাবা ভান্ডারী কেবলার সম্মুখে প্রেমময় কন্ঠে মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) নিবেদন করেন এক মর্মস্পর্শী কালাম (ইসলামি সঙ্গীত), এই কালাম শ্রবণেই বাবা ভান্ডারী কেবলা “আল্লাহু আকবর” বলে চাদর তুলে ফেলেন এবং তার জন্য নিবেদন করা পবিত্র তাবারুক মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) কে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে অনেক আওলাদে পাক আশেক ভক্তের উপস্থিতিতে বাবা ভান্ডারী কেবলা মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) কে ত্বরিকায়ে মাইজভান্ডারি এর সিলসিলার এজাজত তথা খেলাফত প্রদান করেন। হয়ত এটা ছিল প্রিয় ব্যাক্তিকে খেলাফত প্রদান করার একটা বাহানা।

তাই এভাবে সকল কে একত্র করা। বাবা ভান্ডারী কেবলার ছোহবত এ থেকে মওলানা ছৈয়দ কামাল (রাঃ) নিজ জীবনকে করেছেন আলোকিত। পৌছেছেন কামালিয়তের উচ্চ পর্যায়ে। সকল বাধা অনেক কিছুকে উপেক্ষা করে বাবা ভান্ডারী কেবলার প্রেম ভালোবাসা ও ত্বরিকতের উপর ছিলেন অটল। নিজ অসংখ্য ভক্তমুরিদান কে দেখিয়েছেন সত্যের পথ আল্লাহ ও রসূলের পথ। পথভুলা কে দিয়েছেন ছিরাতুল মোস্তাকিমের দিশা। অনেক ভক্তমুরিদান কে কঠিন বিপদে আল্লাহর ইচ্ছায় করেছেন সাহায্য।

এই মহান আধ্যাত্মিক সাধকের পবিত্র বেলায়ত বার্ষিক ওরছ শরীফ প্রতি বছর ৭ই মাঘ ২১শে জানুয়ারি রাউজান উরকিরচর মইশকরম গ্রামে উক্ত দরবারের সাজ্জাদানশীন মওলানা শাহসূফি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন কামাল (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)’র সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়।

লেখকঃ সৈয়দ মোহাম্মদ আসিফ কামাল, নায়েবে মোন্তাজেম, দরবারে কামালিয়া শরীফ।

সৈয়দ মোহাম্মদ আসিফ কামাল

AL Sheraz
AL Sheraz