ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা জারি

AL Sheraz

ইরানজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরিচালিত এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা। এই হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরান সহ ইসফাহান, কুম, করাজ এবং কেরমানশাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইসরায়েলি সূত্র মতে, মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলোকে ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও ট্রাম্পের অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ দমন নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। হামলার পর ট্রাম্প জানান, ইরানি সরকারের দমন-পীড়নে নিহত প্রতিবাদীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প একই সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বের সকল খবর জানতে ভিজিট করুনঃ আন্তর্জাতিক খবর

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে ট্রাম্পের নির্দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। প্রায় অর্ধশতাব্দীর বিরোধের ইতিহাসে তিনি প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সরাসরি ইরানের মাটিতে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন।

ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা ও বিধিনিষেধ

হামলার পর ইরানি প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইসরায়েলের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ দেশজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সাধারণ নাগরিকদের শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনসমাবেশ, কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি

গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির (HRANA) তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার ৫২০ জন প্রতিবাদী নিহত হয়েছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ বলে দাবি করেছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছে বলে তাদের দাবি। বর্তমান এই দমন-পীড়নকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন করায় ওই অঞ্চলে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

AL Sheraz
AL Sheraz