
জ্বালানি আমদানিতে গতি: ২৭,৩০০ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে জাহাজ নোঙরঃ মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার ছায়া ফেলছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বইছে স্বস্তির হাওয়া। বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে একের পর এক জ্বালানি বোঝাই জাহাজ ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সর্বশেষ গতকাল মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘পিভিটি সোলানা’ বন্দরে নোঙর করেছে।
গতকাল সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোতে নোঙর করে বিশালকার ট্যাংকার ‘পিভিটি সোলানা’। জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজটি বন্দরে ভেড়ার পরপরই তেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ ডিজেলের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশের যৌথ অভিযান: রাউজানে ২ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সাধারণত বাংলাদেশের এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ আসে কাতার থেকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি চালান আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আনা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে কোনো সংকট তৈরির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জ্বালানি আমদানির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন,
“গত এক মাসে (৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত) মোট ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।”
তিনি আরও জানান যে, এই ৩০টি জাহাজের সবগুলোই ইতোমধ্যে সফলভাবে জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে।
রাঙ্গুনিয়ায় বালতির পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
কেবল ডিজেল নয়, বিমান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েল এবং শিল্প-কারখানার প্রাণ এলএনজির সরবরাহও অব্যাহত রয়েছে।
-
২৬ মার্চ: ‘গ্রান কুভা’ নামক একটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়।
-
অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি: ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ বর্তমানে কুতুবদিয়া উপকূলে অবস্থান করছে।
-
ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ: গত ২৭ মার্চ ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছে ‘নিউ ব্রেভ’ নামক একটি তেলের ট্যাংকার।
জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকবে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। এর মধ্যে:
-
তিনটি জাহাজ: এলএনজি (LNG) বহন করছে।
-
দুটি জাহাজ: জ্বালানি তেল বহন করছে।
-
একটি জাহাজ: এলপিজি (LPG) বহন করছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হওয়া ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামক একটি বড় ট্যাংকার বর্তমানে মাঝপথে রয়েছে, যা ৪ এপ্রিল বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
হাটহাজারীতে মাদরাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; তদন্তে পুলিশ
বিশ্ব রাজনীতি ও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে বাংলাদেশ সফলভাবে বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়মিতভাবে তেল ও গ্যাসের জাহাজ ভেড়া দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এবং সরকারের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষকে হয়তো বড় কোনো জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘পিভিটি সোলানা’ জাহাজটি কোন দেশ থেকে এসেছে এবং এতে কী আছে?
উত্তর: ‘পিভিটি সোলানা’ জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে এসেছে এবং এতে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে।
২. গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কতটি জ্বালানি তেলের জাহাজ এসেছে?
উত্তর: ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে।
৩. কাতার থেকে জ্বালানি আমদানিতে কেন সমস্যা হচ্ছে?
উত্তর: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাতার থেকে জ্বালানি সরবরাহের শিডিউলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৪. ৪ এপ্রিলের মধ্যে আর কী কী জ্বালানি আসার কথা রয়েছে?
উত্তর: ৪ এপ্রিলের মধ্যে তিনটি এলএনজি, দুটি তেল এবং একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
৫. জেট ফুয়েলের বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি কী?
উত্তর: গত ২৬ মার্চ ‘গ্রান কুভা’ জাহাজে করে ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল দেশে পৌঁছেছে, যা বর্তমানে সরবরাহ চেইনে যুক্ত হয়েছে।

One thought on “জ্বালানি আমদানিতে গতি: ২৭,৩০০ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে জাহাজ নোঙর”
Comments are closed.