
মোবাইল মেরামত করে না দেওয়ায় অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যাঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ভাঙা মোবাইল মেরামত করে না দেওয়ায় মায়ের ওপর অভিমান করে নুরতাজ আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন গ্রাম থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নুরতাজ আক্তার উপজেলার ৯ নম্বর পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৈখাইন গ্রামের গুরা মিয়া সওদাগর বাড়ির আজাদুল ইসলামের বড় মেয়ে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়।
রাঙামাটির বরকলে তরুণ-তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে প্রেমঘটিত জটিলতা
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নুরতাজের একটি মোবাইল ফোন বেশ কিছুদিন ধরে নষ্ট ছিল। সেটি মেরামত করে দেওয়ার জন্য সে পরিবারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। মোবাইল ঠিক করে না দেওয়ায় সে মায়ের ওপর মনে কষ্ট পায়।
মঙ্গলবার সকালে নুরতাজের মা শাহনাজ বেগম ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া তুলতে বাড়ির বাইরে যান। যাওয়ার সময় তিনি নুরতাজকে কিছু টাকা দিয়ে ছোট ভাই-বোনদের জন্য প্রয়োজনীয় সওদা করতে বলেন। দুপুরে ছোট বোনেরা বাড়িতে ফিরে বড় বোনকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়।
অবহেলিত চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত: ৪ কোটি মানুষের ভরসা কেবল চমেক হাসপাতাল
মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা শাহনাজ বেগম। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেনঃ
“এই মেয়েই ছিল আমার সব। তাকে ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচব? ছোট একটা বিষয় নিয়ে সে এভাবে চলে যাবে তা ভাবিনি।”
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তিনি বলেন:
“বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করি এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের ওপর অভিমান থেকেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
সতর্কীকরণ: আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে নিকটস্থ চিকিৎসক বা নির্ভরযোগ্য কারো সহায়তা নিন।

২ thoughts on “মোবাইল মেরামত করে না দেওয়ায় অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা”
Comments are closed.