দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার সূত্রে, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আজ রোববার বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও এআইজি শাহাদাত হোসেন সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে গত ১২ তারিখ (চলতি মাসের) একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

তবে ঠিক কোন মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে কিংবা তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বর্তমানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। দুদক এই অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করলেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলার বিবরণী অনুযায়ী তাঁদের নামে থাকা অবৈধ সম্পদের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

  • বেনজীর আহমেদ: ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন।
  • জীশান মীর্জা (স্ত্রী): ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন।
  • ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর (বড় মেয়ে): ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন।
  • তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর (মেজ মেয়ে): ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জুন আদালতের আদেশে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে:

  • ফ্ল্যাট ও জমি: ঢাকার বাড্ডা ও আদাবরে ৮টি ফ্ল্যাট এবং নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও উত্তরায় ২৫ একর (১ একর = ৬০.৫ কাঠা) ২৭ কাঠা জমি।
  • অন্যান্য জমি: দুই দফায় গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে মোট ৬২১ বিঘা জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়।
  • অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি: গুলশানে ৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং ১৯টি কোম্পানির শেয়ার।
  • আর্থিক হিসাব: ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং শেয়ার ব্যবসার ৩টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। উল্লেখ্য, র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাত কর্মকর্তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।